নিজস্ব প্রতিবেদক
সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের সেবায় নিজেদের আরও বেশি নিবেদিত করার অঙ্গীকার নিয়ে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সম্পন্ন হলো লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল মাল্টিপল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫, বাংলাদেশের ৩৯তম বার্ষিক কনভেনশন ২০২৬। শনিবার (১৩ জুন) অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে দেশি-বিদেশি লায়ন্স নেতৃবৃন্দের পদচারণায় মুখরিত ছিল অনুষ্ঠানস্থল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশের সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক সংকটে লায়ন্স ইন্টারন্যাশনালের দীর্ঘদিনের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব নিয়ে লায়ন্স সদস্যরা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তা আর্তমানবতার সেবায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আমি আশা করি, দেশের যেকোনো সংকটে ও অসহায় মানুষের প্রয়োজনে তারা ভবিষ্যতেও একইভাবে পাশে থাকবেন।”
মাল্টিপল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫, বাংলাদেশের কাউন্সিল চেয়ারপারসন লায়ন মো. আশরাফ হোসেন খান হীরা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন। এছাড়াও লায়ন্স ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক পরিচালক লায়ন নাজমুল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। কনভেনশনের সার্বিক আয়োজনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কনভেনশন চেয়ারপারসন লায়ন সাবিনা সিদ্দিকা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স ক্লাব অব ঢাকা ক্যাপিটাল গার্ডেনের প্রেসিডেন্ট এবং লিও ক্লাব অব ঢাকা ক্যাপিটাল গার্ডেন সিটির উপদেষ্টা লায়ন খান আকতারুজ্জামান (এমজেএফ)। বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য লায়ন খান আকতারুজ্জামান বাংলাদেশ লায়ন্স ফাউন্ডেশন, উদ্যোক্তা ক্লাব ফাউন্ডেশন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট, খুলনা ডায়াবেটিক সমিতি, বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, বাংলাদেশ স্কাউট গাইড ফেলোশিপ, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (IBFB) এবং খুলনা চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দেশের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন।
কনভেনশনে বক্তারা বলেন, লায়ন্স ইন্টারন্যাশনালের মূলমন্ত্রই হলো সেবা। বর্তমান বিশ্বপ্রেক্ষাপটে সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে লায়ন্স সদস্যদের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে লায়ন্স আন্দোলনে বিশেষ অবদান রাখা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিদেরকেও সম্মাননা জানানো হয়।
পুরো আয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রাক্তন আন্তর্জাতিক পরিচালকবৃন্দ, জেলা গভর্নর, বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধি, সদস্যবৃন্দসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে এক আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে কনভেনশনটি সফলভাবে সমাপ্ত হয়।
Leave a Reply