
সংগ্রামী ঐতিহ্য ও স্বপ্নের বাংলাদেশ কোনো স্বৈরাচারের কাছে মাথানত করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবেনা মেজর জেনারেল মোঃ এহতেশাম উল হক এনডিসি পিএসসি (অবঃ)।
“বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক শক্তি” বাংলাদেশের সকল জনগণের জন্য আশা ও ন্যায়বিচারের বাতিঘর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। একইসাথে, আমরা এমন একটি জাতি গঠন করব যা আমাদের পূর্বপুরুষদের স্বপ্ন পূরণ করবে, ৭১’এর সকল শহীদ, জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের এবং বৈষম্য মুক্ত জনগণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগী হাজার হাজার ছাত্র-জনতার বিপ্লবী চেতনার প্রতিনিধিত্বকে বহন করবে, বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের আকাঙক্ষা পূরণ করবে এবং সমৃদ্ধির উত্তরাধিকার গড়ে তুলবে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সম্মেলন কেন্দ্রে মেজর জেনারেল এহতেশামউল হক (অবঃ) এর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক শক্তি নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ হয়। এসময় লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন আমাদের নীতিগুলি দেশপ্রেমের চেতনায় পরিপূর্ণ হবে, ঐক্য, ত্যাগ এবং জাতীয় অগ্রগতির জন্য একটি যৌথ প্রতিশ্রুতিকে উৎসাহিত করবে। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সহ কোনও নাগরিক ভয়ে বাস করবে না বা বৈষম্যের মুখোমুখি হবে না। আমরা মুসলিমসহ সকল জাতি-ধর্ম, ভাষা এবং আঞ্চলিকতার ভিত্তিতে সৃষ্ট বিভাজনকে উপড়ে ফেলবো। বৈষম্যহীন সামাজিক পরিবেশকে পূর্ণ সুরক্ষা এবং নিশ্চয়তা দেবো। জনগণের অধিকার সমুন্নত রাখব এবং বৈচিত্র্য, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাকে মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে গণ্য করবো। সামাজিক সুরক্ষা জাল, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের লক্ষ্যে উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। জ্বালানীর শক্তি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেব। আধুনিক কৃষি পদ্ধতি, কৃষকদের সহায়তা এবং আমদানির উপর নির্ভরতা হ্রাসের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন করা হবে। আমরা নির্বাচিত যুবকদের সামরিক (৩ মাসের) প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করবো যাতে করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা অবদান রাখতে পারে।
একটি আধুনিক, জবাবদিহিতাপূর্ণ এবং সুসজ্জিত পুলিশ বাহিনী আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করবে এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখবে। একইভাবে, সশস্ত্র বাহিনী, বাংলাদেশ রাইফেলস, আনসার এবং ভিডিপিতে সংস্কার গণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধান বজায় রেখে জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রস্তুতিকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করবো।
দুর্নীতির অভিশাপের বিরুদ্ধেও দৃঢ়ভাবে আমাদের অঙ্গীকার ঘোষনা করছি। রাষ্ট্র পরিচালনার সকল ক্ষেত্র থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা কেবল একটি অগ্রাধিকার নয় এটি আমাদের এই রাজনৈতিক দলের পক্ষ হতে জনগণের প্রতি অঙ্গীকারও বটে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে লড়াইয়ে শামিল হতে আহ্বান জানাই দেশবাসী জনতাকে। সকল ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবীসহ তারুণ্যের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের মহতি সময় এখনই। আমরা দুর্নীতির নেটওয়ার্কগুলিকে ভেঙে ফেলব। জাতির সম্পদ, জণগণের মালিকানা হতে লুট করে নিয়ে যাওয়া দেশদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অবস্থান একটি সময়োপযোগী রাজনীতি। আমাদের লক্ষ্য হল বাংলাদেশকে একটি সত্যিকারের কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যেখানে সকল নাগরিক সামাজিক এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাবে। কেবল আশা আকাঙক্ষার স্লোগান নয় থাকবে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার। আমরা নিশ্চিত করব যে এই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের যাবতীয় নিয়ম, নীতি, আইন এবং কর্মসূচী হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ন্যায্যতার মূল্যবোধের ভিত্তিতে।
নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে সকাল এগারটায় মঞ্চে আসেন মেজর জেনারেল এহতেশামউল হক। তিনি দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন- আমি প্রিয় মাতৃভূমি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে একটি কঠিন রাজনৈতিক দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার অঙ্গীকার ঘোষনা করছি। বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক এবং রাজনৈতিক উত্তরণের জন্যে নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, আমাদের ভাই, বোন এবং সন্তানদের অপরিসীম আত্মত্যাগের মাধ্যমে। একাত্তরের সেই মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে লাখো মানুষের আত্মদান, ২ লক্ষ মা-বোনদের সম্ভ্রমহানীর মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষনাপত্রে উল্লেখিত “সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ছিল তা স্বাধীনতা অর্জনের পর হতে আজকের দিন পর্যন্ত এই ৫৪ বছরের বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বৈষম্যের করাল গ্রাস আমাদের দেশ-মাতৃকাকে প্রবলভাবে আক্রান্ত করেছে। জনগণ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে গণ আন্দোলন গড়ে তুলেছে। আমাদের সংগ্রামী ঐতিহ্যবাহী জাতিস্বত্বা বার বার প্রতারিত হয়েছে। আমরা আর প্রতারিত হতে চাইনা।
গণতান্ত্রিক শক্তি’র দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন দলের সদস্য সচিব এ এফ উবাইদুল্লাহ মামুন,
অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করেন দলের যুগ্ম আহবায়ক জাহাঙ্গীর চৌধুরী, মিয়া সিরাজ, সেলিম প্রধান, নুরুল হুদা চৌধুরী মিলু, ব্যারিষ্টার মামুনুর রাশিদ সুমন, ড. এ্যাড. খালেকুজ্জামান, এ্যাডভোকেট এন এম মোস্তফা নুর, নাজমুল হুদা অপু এবং যুগ্ম সদস্য সচিব ইব্রাহিম খাঁন সাদাত, ব্যারিষ্টার আবু নাসির মজুমদার, শামীম মোঃ শিবলী, মোঃ বোরহান উদ্দিন রব্বানী, তাফহিমুল ইসলাম, মোঃ শফিকুল ইসলাম, রেখা আক্তার,আরো বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দীপা সিনহা, ইন্জিনিয়ার সরোয়ার হোসেন, আলী আহসান খান সুমন সহ একাধিক নেতাকর্মী। প্রায় দুইশতাদিক নেতাকর্মী ও মিডিয়া কর্মী উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
www.banglarnews71.com
Copyright © 2026 Banglar News 71. All rights reserved.